- মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে শহরে বিশেষ প্রদর্শনী ‘উত্তম- দ্যা মহানায়ক’, থাকছে ছবির পোস্টার, বিজ্ঞাপন, রেকর্ড, ম্যাগাজিন, বুকলেট, স্থির ছবি , গানের বই, লবি কার্ড আরো অনেক কিছু
উত্তম কুমার। শুধুমাত্র একটা নাম নয়, একটা ব্র্যান্ড, যা একশো বছর পূর্ণ করেও সমান ভাবে জনপ্রিয়, নির্ভরযোগ্য, বাঙালির তথা সংস্কৃতি প্রেমী মানুষের বড় নিজের, আপনার মানুষ, মহানায়ক, গুরু।
বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২০ আগস্ট থেকে ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ ( দুপুর ৩টে থেকে রাত ৮ টা , প্রথমদিন বাদে ) আয়োজিত হতে চলেছে ” উত্তম – দ্যা মহানায়ক”,শীর্ষক এক বিশেষ প্রদর্শনী, যামিনী রায় গ্যালারী ,আই.সি.সি.আর কলকাতায়। নিবেদনে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স, সহযোগিতায় খুকুমণি, দেব চক্রবর্তী। এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজক থিজম ইভেন্টস।

এক ছাদের নীচে উত্তম প্রচার সম্ভার। ছায়াছবির পোস্টের,, বুকলেট, সং বুক, ফিল্ম স্টিলস, ছবির বিজ্ঞাপন, পুরোনো ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদন, ছবির গানের রেকর্ড এর এক বিশেষ সম্ভার নিয়ে আসছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পোস্টার সংগ্রাহক সুদীপ্ত চন্দ। উল্লেখ্য, এবছর তাঁর সংগ্রাহক জীবনের কুড়ি বছর পূর্ণ হলো।

ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশন এর প্রাক্তনী সুদীপ্ত চন্দ ছাত্র থাকাকালীনই চলচ্চিত্র পোস্টারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। পরে নিজের বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোয় আয়োজন করেন বিশেষ প্রদর্শনীর। কখনো প্রবাদপ্রতিম সরোদীয়া পন্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, কখনো বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক -যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পী ভি.বালসারা বিদ্যালয়ে এসে সুদীপ্তের কাজের প্রশংসা করেছেন। সুদীপ্তকে তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় প্রমুখ। দু’দশক ধরে চলচ্চিত্রের পোস্টার ও নানা প্রচার মাধ্যম নিয়ে সংগ্রহ পাশাপাশি প্রদর্শনী, ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে চলেছেন একক ভাবে। কখনো অমিতাভ বচ্চন, কখনো রাহুল দেব বর্মন, কখনো কিশোর কুমার, কখনো বাংলার দিকপাল সুরকার বৃন্দ আবার কখনো সুচিত্রা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এমন নানা বিষয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন সুদীপ্ত চন্দ। বা কলকাতার বাইরে ত্রিপুরায়ও তাঁর চলচ্চিত্র পোস্টারের প্রদর্শনী প্রশংসিত হয়েছে। সুদীপ্ত বানিজ্য বিভাগে স্ণাতক হন হেরেম্ব চন্দ্র কলেজ ( সাউথ সিটি কলেজ, দিবা বিভাগ) থেকে, পরে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পাশাপাশি রবীন্দ্র সংগীতে ডিপ্লোমা পান সুরঙ্গমা থেকে।

সুদীপ্ত চন্দ দীর্ঘদিন মিউজিক বিষয়ক সাংবাদিকতা করেছেন। দৈনিক স্টেটসম্যান, দ্যা স্টেটসম্যান পত্রিকায় তাঁর মিউজিক নিয়ে লেখা সমাদৃত হয়েছে। সুদীপ্ত তৈরি করেন অমিত কুমার ফ্যান ক্লাব, নিজের মিউজিক পি.আর এজেন্সি “দ্যা ড্রিমার্স”। তাঁর পি.আর সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হয় মাউন্টেন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। এছাড়াও তাঁর লেখা প্রকাশ পেয়েছে সন্দেশ, উল্টোরথ এর মতো পত্রিকায়। তাঁর কাজের জন্য সম্মানিত হয়েছেন পাবলিক রিলেশন সোসাইটি অব ইন্ডিয়া, টেডেক্স এর মতো মঞ্চে।
এবার আসা যাক প্রদর্শনীর কথায়। চলচ্চিত্র পোস্টারের মধ্যে উত্তম কুমার প্রোযজিত হিন্দি ছবি ছোটি সি মুলাকাত এর দু’রকম সাইজ ও ভিন্ন ডিজাইন থাকছে, অমানুষ ছবির হিন্দি মুম্বাই প্রিন্ট বড় পোস্টার, পাশাপাশি হিন্দি ছবি দূরিয়া এর দু’ডিজাইন এর বড় পোস্টার , থাকছে দুই শিটের বড় পোস্টার বন্দী ও বহ্নিশিখা ছবির, রেয়ার পোস্টারের মধ্যে যাত্রা হলো শুরু , পুণর্মিলন, পুত্রবধূ, প্রিয় বান্ধবী ছবির ক্যালেন্ডার এর তারিখ দেওয়া পোস্টার, ওড়িয়া হরফে লেখা বন্দী ছবির পোস্টার, ব্রতচারিণী, ওরা থাকে ওধারে, চন্দ্রনাথ, ত্রিযামা, অন্নপূর্ণার মন্দির এরকম একশোটা অরিজিনাল ছবির পোস্টার, বুকলেট প্রায় একশোর বেশি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মন্ত্রশক্তি, সন্জিবণী, হ্রদ, বকুল, শঙ্কর নারায়ণ ব্যাঙ্ক, দেবত্র, বসু পরিবার, নবীন যাত্রা প্রভৃতি। থাকছে উত্তম কুমার এর নিজের গাওয়া গানের রেকর্ড, পাশাপাশি তাঁর অভিনীত বেশ কিছু ছবির রেকর্ড। থাকছে গানের বই। উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর শ্যামল মিত্রের গাওয়া বিশেষ স্মরণ সংখ্যা রেকর্ড,নিশান ছবির লেটার হেড, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির বিজ্ঞাপন, নিজের গান নিয়ে লেখা প্রতিবেদন ,সুচিত্রা সেনকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদন , বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিরল ছবি, ছবির স্থির চিত্র, লবি কার্ড, অপ্রকাশিত ছবির বিজ্ঞাপন, ডাক টিকিট আরো অনেক কিছু।
সুদীপ্ত চন্দ জানালেন, ” দীর্ঘ দু’দশক ধরে একটা ভালোবাসাকে সযত্নে লালন পালন করে আসছি। মূলত ছবির পোস্টার সংগ্রাহক হিসেবেই আমার পরিচিতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাঁরা চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেন, আগ্রহ রাখেন তাঁরা এগুলো দেখলে একটা সময় সম্পর্কে ধারণা করতে পারবেন। সংগ্রহের সাথে সংরক্ষণ এবং প্রচার এর ফলে মানুষ অনেক বেশি করে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হন, আগ্রহী হন। নানা সময়ে আয়োজিত এরকম প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আমাদের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে জানাতে সাহায্য করে। “






