কলকাতা, ১৩ এপ্রিল ২০২৬: শহরের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সল্ট লেক শিক্ষা নিকেতন আজ তাদের ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবস ‘সপ্তক ২০২৬’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন করল। ধনো ধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং ছিল মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার সমাহার।
২২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের এই আয়োজন সল্ট লেক শিক্ষা নিকেতনের সার্বিক শিক্ষার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। শিক্ষাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও জীবনদক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য, তা প্রতিষ্ঠানটি নিরন্তর বজায় রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমামি গ্রুপের ডিরেক্টর শ্রী রাধে শ্যাম গোয়েঙ্কা, বেঙ্গল এনার্জির চেয়ারম্যান ও এমডি শ্রী ওম জালান, হিন্দুস্তান ক্লাব ও এমসিসিআই-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শ্রী ঋষভ কোঠারি-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়াও সল্ট লেক শিক্ষা নিকেতন ও সল্ট লেক শিক্ষা সদনের কর্ণধারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান শ্রী ললিত বেরিওয়ালা, সেক্রেটারি শ্রী সঞ্জয় আগরওয়াল, ট্রেজারার শ্রী রাধে শ্যাম গুপ্ত, প্রিন্সিপাল মিস মধুস্মিতা বেজবরুয়া, প্রেসিডেন্ট শ্রী ভান্বরলাল জাজোদিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রী গৌরী শঙ্কর খাজাঞ্চি, সেক্রেটারি শ্রী জগদীশ প্রসাদ আগরওয়াল, ট্রেজারার শ্রী হরিশ আগরওয়াল-সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মর্যাদা ও উষ্ণতা এনে দেয়।

এবারের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘সপ্তক’, যা সংখ্যা সাতের রহস্যময়তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সাতটি স্বর, সাতটি রং, বিশ্বের সাত আশ্চর্য, সাত মহাদেশ এবং নক্ষত্রমণ্ডলের ধারণাকে একসূত্রে গেঁথে এক আলোকোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা তৈরি করা হয়। পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যন্ত এক কল্পনাময় যাত্রায় দর্শকদের নিয়ে যায় এই অনুষ্ঠান, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের নৃত্য, সঙ্গীত ও নাট্য পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে সৃজনশীলতা, উদ্যম ও থিমের গভীরতা।

এই অনুষ্ঠান ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত শ্যাম সুন্দর বেরিওয়ালার স্বপ্নের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার তাঁর যে স্বপ্ন, তা আজও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণা জোগায়।

চেয়ারম্যান শ্রী ললিত বেরিওয়ালা তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের দুই দশকের যাত্রাপথ স্মরণ করেন এবং জানান, কীভাবে তাঁর পিতা মাত্র ৪০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে সেক্টর ফাইভের পেছনে এই বিদ্যালয়ের সূচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমাদের ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবস শুধু একটি মাইলফলকের উদ্যাপন নয়, বরং শিক্ষা, উন্নতি ও স্বপ্ন দেখার এক অদম্য স্পিরিটের প্রতিফলন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিষ্ঠা এবং ছাত্রছাত্রীদের সীমাহীন সম্ভাবনাই আমাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং উচ্চতর লক্ষ্য স্থির করতে অনুপ্রাণিত করে।”
প্রিন্সিপাল মিস মধুস্মিতা বেজবরুয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাই বিশ্ব পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার—এই বিশ্বাসে আমরা অটল। আমাদের লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে তারা সীমার বাইরে চিন্তা করতে পারে এবং সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবদান রাখতে পারে।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ে সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে বিশেষ সাপোর্ট ক্লাস, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ‘সুপার ১০’ প্রোগ্রাম, এবং ইসকনের নিতাই মহারাজের নেতৃত্বে লাইফ স্কিলস সেশন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এক্সট্রামার্কসের মাধ্যমে এআই-সমৃদ্ধ স্মার্ট ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে এবং শিক্ষাগত উন্নতির জন্য গ্রীষ্মকালীন ক্লাস ও ব্রিজ কোর্সের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে প্রখ্যাত সঙ্গীত জুটি সৌরেন্দ্র ও সৌম্যজিতের মুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে। তাঁদের সুরেলা সঙ্গীত সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয় এবং এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক যাত্রার সার্থক সমাপ্তি ঘটায়।






