- হিমাচল প্রদেশের বাড্ডিতে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন ‘টপকন’ সৌর সেল উৎপাদনে নতুন অধ্যায়; উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
কলকাতা, ২৫ জুন, ২০২৬ – সোলার সেল তৈরিতে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও অগ্রণী প্রস্তুতকারক সংস্থা জুপিটার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, হিমাচল প্রদেশের বাড্ডিতে তাদের উৎপাদন ক্যাম্পাসে চতুর্থ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি তাদের পরিকাঠামোয় অতিরিক্ত ১.২৫ গিগাওয়াট উন্নত প্রযুক্তির ‘টপকন’ (TOPCon – Tunnel Oxide Passivated Contact) সোলার সেল উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করল। নতুন এই ইউনিটটি চালুর ফলে জুপিটার ইন্টারন্যাশনালের মোট সোলার সেল উৎপাদন ক্ষমতা ২ গিগাওয়াট থেকে এক ধাক্কায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩.২৫ গিগাওয়াটে গিয়ে পৌঁছালো।
নতুন এই ইউনিট জুপিটার ইন্টারন্যাশনালের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বাজারের ক্রমবর্ধমান উচ্চ কার্যক্ষমতার মাপকাঠি এবং পারফরম্যান্স-ভিত্তিক ক্রয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বৃহৎ পরিসরে পরবর্তী প্রজন্মের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার সেল সরবরাহের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এই নতুন মাইলফলকটি বাড্ডিতে জুপিটারের সাম্প্রতিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে; যেখানে কোম্পানিটি চলতি বছরের শুরুর দিকেই ১ গিগাওয়াট মোনো পার্ক সোলার সেল উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছিল, যার ফলে তাদের মোট ইনস্টলড ক্ষমতা প্রায় ২ গিগাওয়াটে পৌঁছে যায়। বর্তমানে ‘টপকন’ প্রযুক্তিকে বিশ্বব্যাপী মূলধারার সোলার সেল উৎপাদনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা উচ্চতর কার্যক্ষমতার সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদে উন্নত পারফরম্যান্সের নিশ্চয়তা দেয়। নতুন এই চতুর্থ ইউনিটের মাধ্যমে জুপিটার কেবল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে অত্যাধুনিক ও উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতার প্রসারে নিজেদের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলল।
এই প্রযুক্তিগত মাইলফলক প্রসঙ্গে জুপিটার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ধ্রুব শর্মা বলেন , “বাড্ডির চতুর্থ ইউনিটে উৎপাদন শুরু হওয়া জুপিটারের প্রযুক্তিগত যাত্রায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ১.২৫ গিগাওয়াটের ‘টপকন’ ক্ষমতা উৎপাদনে যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা এমন এক পরবর্তী প্রজন্মের সেল প্রযুক্তির প্রসার ঘটাচ্ছি, যা কার্যক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্সের মানদণ্ডকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। উৎপাদন ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা বজায় রাখা, পরিবেশগত সচেতনতা এবং উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর নজর রেখেই আমরা এটি বাস্তবায়ন করছি। এই বাড্ডি প্ল্যান্টটি জুপিটারকে এমন একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত ভিত্তি প্রদান করছে, যার ওপর ভর করে আমরা বছরের শেষে নাগপুরে ৩ গিগাওয়াটের একটি ‘টপকন++’ উৎপাদন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্যে আমাদের সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণ করছি।”
চতুর্থ ইউনিটের উৎপাদন সম্প্রসারণে জুপিটার ইন্টারন্যাশনাল গুণগত মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং পরিবেশ-সচেতন উৎপাদন ব্যবস্থাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সুসংহত প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বৃহৎ পরিসরে ধারাবাহিক ও মানসম্পন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা-এর মাধ্যমে এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে হিমাচল প্রদেশের স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন, প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমেশন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা–সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন সবুজ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদও গড়ে তোলা হবে।
চতুর্থ ইউনিটের মাধ্যমে জুপিটার ইন্টারন্যাশনাল ভারতের ক্লিন এনার্জি যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করছে। দেশীয় সৌর সেল উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৃহৎ পরিসরে উচ্চ- সৌর প্রযুক্তির গ্রহণকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।






