অন্ধকারের বুক চিরে আলোকে ডেকে আনার শতাব্দী-পুরোনো আবেগ

আরাত্রিকা ভট্টাচার্য্য :- “আমার তাইতো লাগে ভয়…
প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে হই বুঝিবা ক্ষয়…
ওরে যেন ভুলিস না তোর দয়াময়ী মা…
তার রক্তমাখা কালো রূপে ঘুচায় কালিমা…”

আশ্বিনের বাতাসে যখন প্রথম করতল স্পর্শ করে ঠান্ডা হাওয়া, তখনই শহরের দক্ষিণপ্রান্তে চেতলার রাস্তাঘাটে দুলে ওঠে মায়ের গন্ধ। শিউলি-কাশের সাদা আলপনা, কোজাগরীর চাঁদের মলিন আলো, আর ভক্ত হৃদয়ের নিঃশব্দ কম্পন যেন একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করে এক অচেনা আবেশ যেখানে করালবদনীর ভয়ঙ্করী রূপের মাঝে লুকিয়ে থাকে স্নেহসিক্ত মাতৃমূর্তির উষ্ণতা।

চেতলার কালীক্ষেত্র যেন আধ্যাত্মিকতার এক নির্জন দ্বীপ। চামুণ্ডা কালী, গোপালনগরের এলোকেশী, জহুরা কালী, হাজার হাত কালী…
ভক্তির আলোকছটায় তাঁদের স্মৃতি জেগে ওঠে প্রতিটি প্রহরে।

🔹১১১ বছরের ইতিহাস—যেখানে জন্ম নিয়েছিল চেতলার আদি শ্যামাকালি

ঠিক ১১১ বছর আগে শরৎচন্দ্র চন্দ্র এবং তাঁরই মতো সমমনস্কদের হাতে জন্ম নেয় চেতলার শ্যামাকালি বারোয়ারি পুজো হিসেবে, শুধুই চেতলাবাসীর মঙ্গলকামনায়। সময়ের স্রোত বহুবার ভেঙেছে, গড়েছে সমাজকে। তবু রীতি, ভক্তি, শৃঙ্খলার হলুদ আলোয় আজও একইরকম অবিচল।

🔹১৯৭৮—উত্তপ্ত চেতলা, আর অস্থিরতার বুক চিরে জন্ম তন্ত্রমতের আরাধনা

সত্তরের শেষ, আশির গোড়ায় চেতলা তখন প্রবল উত্তেজনার আঁচে দগ্ধ। ১৯৭৮,রাজনৈতিক অস্থিরতার কালো ছায়ায় রাতে অটো-ট্যাক্সিও ঢোকার সাহস পেত না। বাড়ির মেয়েরা দরজা পেরোতে কাঁপত ভয়েতে।

ঠিক সেই সময়, সাধক শ্রদ্ধানন্দ সরস্বতী, চেতলাবাসীর ‘সাধু দা’ বাসিন্দাদের কল্যাণে শুরু করেন দশমহাবিদ্যার তন্ত্রমতে পুজো। পরপর তিন বছর। তারপর ১৯৮২ সালে জয়রামবাটীর সারদা মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ সদানন্দ মহারাজজি হাতে নেন গুরুভার। সেই বছর থেকেই এই আরাধনা তন্ত্রের পথ ছেড়ে সারদা মঠ ও মিশনের নিয়মে নতুন জীবন পায়। চেতলাবাসীর কাছে এই পুজো তাই শুধু পুজো নয় বরং গর্ব, ভক্তি, আবেগ, ঐতিহ্যের মিলনমেলা। সেই প্রথম দিন থেকেই তাই পুজোর সংকল্প হয় চিরাচরিত নিয়ম মেনে “চেতলা সর্বসাধারণের” নামে।

🔹৭–৮ দিনের বিপুল আয়োজন—ভক্তি, সংস্কৃতি আর সামাজিক দায়িত্ববোধের রথযাত্রা

প্রতিবছর কালীপুজোর আগের দিনই শুরু হয় এই মহোৎসব। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ শাখার ভারত সেবাশ্রমের মহারাজজির তত্ত্বাবধানে,
বহু বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলআরতি ও আরতিনৃত্য দিয়ে শুভারম্ভ হয় এই পুজোর।
তিন–চারদিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নাচ, গান, আবৃত্তি, ভক্তিগীতি, শিশুদের বিশেষ পরিবেশনা সব মিলিয়ে চেতলা হয়ে ওঠে এক দেবীভাবনার আলোকিত প্রাঙ্গণ।

🔹১৯ অক্টোবর—উদ্বোধনী সন্ধ্যা ও গুণিজনদের সম্মেলন

এই বছর, ১৯ অক্টোবর রবিবারের সন্ধ্যা যেন হয়ে উঠেছিল আকাশছোঁয়া। ভারত সেবাশ্রমের মহারাজজি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিষয় বালক ভার্জিষ্ণু ভট্টাচার্য্যি,জয়েন্ট কমিশনার অফ রেভিনিউ, মাননীয়া পাঞ্চালী মুন্সি,জয়েন্ট কমিশনার অফ রেভিনিউ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রশিল্পী অনুপম হালদার,বিশিষ্ট মডেল ও অভিনেতা রোহিত কুমার চৌধুরী,বিশিষ্ট ডান্স ডিরেক্টর ও অভিনেত্রী মহুয়া ম্যাম,অভিনেত্রী ও মডেল শ্রী সেনগুপ্ত,খুদে নৃত্যশিল্পী পারমিতা দাস,
সংগীতশিল্পী অন্বেষা ব্যানার্জী,সুরের দেবীর আশীর্বাদধন্যা ঝুমকি সেন,গায়ক অমিত গাঙ্গুলি,
“ডাফোডিল”-এর কর্ণধার রুদ্র সেন সহ প্রমুখ।

ফুলের মতো বাচ্চাদের গ্রুপ আরতি নৃত্য ছিল যেন দেবালয়ের ফুলঝুরি। আর সবকিছুর উপরে বাক্যের মালা গেঁথে অনুষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখা আন্তর্জাতিক বাচিকশিল্পী আবির সেনগুপ্তের।
তাঁর কণ্ঠের আবেশে দর্শকদের মন যেন আলোয় ভরে ওঠে প্রতিবারের মতোই।

🔹বিস্ময় বালক ভার্ষিষ্ণুর আগমন—ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো

মাত্র চার বছর বয়স। গীতার শ্লোক, আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা, শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ উচ্চারণ তাঁকে ঘিরে ভক্তদের ভিড় ছিল যেন সাগর জোয়ারের মতো।
তাঁর প্রতিভার ঝুলিতে ইতিমধ্যে জমেছে বহু সাফল্য, বহু ভালোবাসা,অগুণিত আশীর্বাদ।

দশমহাবিদ্যা কমিটির সাংস্কৃতিক অভিভাবক পিয়ালি ঘোষ সম্মাননা জানান সকল অতিথিবর্গকে। তারপর শুরু হয় মন মাতানো পরিবেশনা—পারমিতার নাচ,অন্বেষার সুর,
ঝুমকির আগুনে গলায় আবেশমাখা গীত,
আর অমিত গাঙ্গুলির কণ্ঠে সুরের জাদু। বলা যায় প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের অনুরণনে বাকি দিনগুলোও রেশে মেখে থাকবে।

🔹২১ অক্টোবর—‘শিশু উৎসব’: ছোটদের শিল্পকলা আর নিষ্পাপতার দীপশিখা

সেই মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় ছোটদের রঙিন উৎসব। গান, নাচ, আবৃত্তি বাচ্চাদের প্রাণোচ্ছল হাসিতে ভরে ওঠে চেতলা। সঞ্চালনায় ছোট্ট স্নেহ, পাশে সঙ্গী অভিনেত্রী শ্রী সেনগুপ্ত।

ঘুঙুর, রাজশ্রী মিউজিক একাডেমি, শংকরা নৃত্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মনভোলা উপস্থাপনা সাজিয়ে তোলে সন্ধ্যাকে। তবলা বাদক অংশুরাজ ভট্টাচার্য্য-এর তালবাদ্য ছিল কচি প্রতিভার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতি শিশুশিল্পীকে বরণ করে নেন পিয়ালি ঘোষ। ভালোবাসার হাতছানি ছড়িয়ে দেয় উষ্ণতা।

🔹‘আমাদের অঙ্গীকার’—মানবিকতার বাতিঘর

দুই বছর আগে ১৪৩০ বঙ্গাব্দে শুভ বৈশাখে,
চেতলা যুব সংঘ ক্লাবের সহযোগিতায়,
পিয়ালী ঘোষ, কল্লোল ঘোষ, ও তাঁদের পুত্র অর্কপ্রভ ঘোষ ত্রয়ীর হাত ধরে জন্ম নেয়
“আমাদের অঙ্গীকার” সদানন্দ মহারাজজির আদর্শে, মানবিকতার পথে অটল প্রতিজ্ঞা হয়ে।

এই প্রতিষ্ঠান দেখিয়েছে রক্তারক্তির পৃথিবীতেও করুণার হাত আছে,অস্ত্র নয়, ফুলের ডোর যথেষ্ট।
“আমাদের অঙ্গীকার” মানেই হিংসা, দ্বেষ, জাতপাত, ধর্মবিভেদহীন এক মানবিকতার আলোকবৃত্ত। অন্ধকারের বুক চিরে আলো ফোটানোর ব্রত।

এইবারও, “শিশু উৎসব”-এর দিন সমাজের আর্তদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেয় সংগঠন।
উপস্থিত ছিলেন অর্কপ্রভ ঘোষ, বাপি ঘোষ ও পিয়ালী ঘোষ। তাঁদের উষ্ণতার স্পর্শে ভরে ওঠে শীতের আগমনী সন্ধ্যা। প্রায় ১০০ জন দুঃস্থ মানুষের হাতে উঠে যায় শীতের উষ্ণতা।

🔹২৪ অক্টোবর—শেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, সুর-অভিনয়-আবেগের সম্মিলন

ফিল্ম ও থিয়েটারের বিশিষ্ট গুণিজনদের আগমন ছিলো এদিন চোখে পরার মতো। সঙ্গীতশিল্পী বৃন্দা রায়চৌধুরী,পবিত্র দাস,অর্পিতা পাল,চিত্র পরিচালক কমল রায়, তাপসী রায়,চিত্র পরিচালক অশোক বিশ্বনাথন সবারই উষ্ণ উপস্থিতি প্রাঙ্গণকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

সেই সন্ধ্যায় উপহার ছিল আরও একটা পিয়ালি ঘোষের মনকাড়া পরিবেশনা। আর পুরো পরিবেশকে বেঁধে রাখেন আবির সেনগুপ্ত তাঁর গলার জাদুতে।

🔹২৬ অক্টোবর—ছটপুজোর আগের দিন শুরু মহাপুজো

পুজোর উপাচার সাজানো দোকান, আলোর রোশনাই, ভক্তিগীতি আর বেলুন-বাদাভাজার গন্ধ মিলেমিশে তৈরি করে অদ্ভুত আবহ। উপাচার মেনে মা-রূপী প্রতিটি মূর্তিকে নামানো হয় বেদী থেকে।
প্রধান আদিকালির সঙ্গে থাকে আরও ১০ দেবী—
শব শিবম কালি, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী, কমলা।
কালিপুজোর দিন হয় শ্যামাকালির পূজা।
এরপর দিন বিসর্জনজাজেস ঘাটে। ছট পুজোর আগের দিনে সারদা মঠ ও মিশনের নিয়মে হয় মহাপুজো। ধোঁয়া-ধূপে সাজানো বেদীতে স্থাপন করা হয় মূল ঘট। এদিন ছোট্ট কুমারীকে মা রূপে পুজো করা হয়,তারপর শুরু হয় মূল অর্চনা। নিবেদন করা হয় পোলাও, খিচুড়ি, পায়েস, মাছ,নানা রকমের ভাজা, মাংস, তরকারি, চাটনি, আস্ত শোল মাছ। আর সঙ্গে চালকুমড়ো বলি সেখানে উৎসর্গ হয় না প্রাণ, বরং অন্তরের অন্ধকার,হিংসা, দ্বেষ, লালসা সব মায়ের চরণে বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে মায়ের বলির মাংস সতীপীঠ কালিঘাট থেকে আনা হয় প্রথানুযায়ী।

🔹প্রভাতের মহাযজ্ঞ—ফলে পূর্ণ হয় মনস্কামনা

ভোর হলে প্রতিষ্ঠিত হোমকুণ্ডে হয় মহাযজ্ঞ। ভক্তরা দূরগ্রাম ছেড়ে আসেন মনোবাসনা জানিয়ে ফল উৎসর্গ করতে। বিশ্বাস এই আহুতিই দূর করে অন্তরের আঁধার। এইভাবে লোকমুখে মায়ের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পরে অন্তর থেকে অন্দরে। মহাযজ্ঞের পর পুজো শেষে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয় ভক্তদের মধ্যে। প্রায় ৩৫০০-৪০০০ মানুষের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে যায় মায়ের মহাপ্রসাদী আশীর্বাদ।

🔹শতবর্ষের থিম সঙ্গীত: নির্মলা মিশ্রর কণ্ঠে এক আলোকিত ঐতিহ্য

দশমহাবিদ্যা পূজার শতবর্ষে এক শতক পেরিয়ে আসা ইতিহাসের গায়ে যেন নতুন করে আলো জ্বেলে উঠেছিল সেদিন। আর সেই আলোকজ্বালার মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার গানের অমর শিল্পী, পূজার সাংস্কৃতিক কমিটির সভাপতি নির্মলা মিশ্র। পূর্ণিমার মতো জ্যোৎস্নামাখা তাঁর কণ্ঠ যেন শতবর্ষের মঙ্গলপ্রদীপে ঢেলে দিল সুরের শুদ্ধ আঞ্জলি।

তাঁর সঙ্গে সমস্বরে গলা মিলিয়েছিলেন কমিটির দুই-একজন সদস্য,বিশেষত পিয়ালি ঘোষ যার কণ্ঠে ছিল নির্মলা দেবীর সুরে সুর মিলিয়ে চলার মমতাভরা নিবেদন। মঞ্চের আলো-আঁধারি পেরিয়ে সেই বহুস্বরের সংহতিতে যেন জন্ম নিল পূজার নিজস্ব এক নতুন সৌন্দর্য।

আর এই থিম সঙ্গীতের অন্তরে যে হৃদস্পন্দন—যে শব্দেরা ভেসে এসে শত বছরের চেতনা ছুঁয়ে যায়—তার স্রষ্টা ছিলেন বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার প্রদীপ দাশগুপ্ত। নির্মলা মিশ্রর জীবনসঙ্গী, পথসাথী, এবং শিল্পের অনুচ্চকণ্ঠ সাধক সেই মানুষটি নিজের হৃদয়ের গভীর থেকে লিখে দিয়েছিলেন গানটির প্রতিটি লাইন, প্রতিটি পংক্তি। সুরও তাঁর—নিবেদিত, নির্মল, নির্মলা দেবীর কণ্ঠস্বরের মতোই অনন্ত।

একদিকে নির্মলা মিশ্রর কণ্ঠে জাগরিত শাস্ত্রীয় গভীরতা, অন্যদিকে প্রদীপ দাশগুপ্তর লেখা ও সুরের কোমল অথচ দৃঢ় এক আধ্যাত্মিক স্পর্শ—এই দুইয়ের মিলনে জন্ম নিয়েছিল এমন এক থিম সঙ্গীত, যা শুধু গান নয়, শতবর্ষের পূজাকে অনন্তের দিকে এগিয়ে নেওয়া এক সাংস্কৃতিক দলিল।

শ্রোতারা তাই আজও বলেন—
“ওই গানটি গাওয়া মাত্রই মনে হয়, পূজার শতবর্ষ যেন আবার জন্ম নেয়, আবার বাঁচে।”

🔹চেতলা দশমহাবিদ্যা পুজো: কলকাতা–বারাসাতকে ছাপিয়ে সেরার আসনে এক উজ্জ্বল নাম

এই শহরের পুজো নকশায় যখন আলোর ছটা ক্রমশ আঁধার ভেদ করে ওঠে, তখনই যেন ইতিহাসের পাতায় আরেকটি নতুন অধ্যায় শান্তভাবে লিখে দেয় চেতলা দশমহাবিদ্যা পুজো। এ বছর বারাসাত ও কলকাতা মিলিয়ে রেডিও মিরচির বাছাই করা সেরা ১২টি কালিপুজোর পাশে সমান ভরসায় দাঁড়িয়ে যায় এই পুজো। আর তারপর জুরিদের সূক্ষ্ম, চুলচেরা বিচারের পর এক ঝলক বিজয়ীর হাসি নিয়ে ঘরে ফেরে শ্যামাশ্রী সম্মান।

চেতলার সরু গলি, রঙিন আলো, বাজনার তালে তালে ভেসে থাকা সন্ধ্যার কুয়াশা সবকিছু মিলেমিশে যেন মহামায়ার অলৌকিক আবাহনকে আরও একধাপ উজ্জ্বল করে তুলেছে। যেন মনে হয়, দেবীর মূর্তির প্রতিটি ভাঁজে, প্রতিটি দৃষ্টিতে, প্রতিটি কম্পনে ছড়িয়ে আছে এক অচেনা রহস্য, যা দেখলে দর্শনার্থীরা নিজের অজান্তে থমকে দাঁড়ায়।

পুরো চত্বর জুড়ে প্রতিদিনের ভিড়, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, মিডিয়ার মাইক সবই যেন সাক্ষী আছে এই সাফল্যের। নামীদামী সংবাদমাধ্যমের আলোয় যখন চেতলার নাম ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে শহরতলি ছুঁয়ে আরও দূরে, তখনও পুজোর প্রত্যেক কর্মী, শিল্পী, সেবায়েতের চোখে লেগে থাকে একই বিনয়—“মা-ই আমাদের সব”।

শ্যামাশ্রীর সম্মান শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি যেন বছরভর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর অগাধ ভক্তির এক পূজাঞ্জলি। এ যেন চেতনাকে স্পষ্ট করে বলে
মা যেখানে থাকেন, আলো সেখানেই পথ খুঁজে নেয়।

🔹শেষকথা—চেতলার দশমহাবিদ্যা পুজো আলো আর অন্ধকারের সহবাসের উৎসব

বছর ঘুরে মা ফেরেন চেতলার বুকে জাঁকজমক নয়, উল্লাস নয়,শুধু মানুষের ভক্তি, বিশ্বাস আর নিস্তব্ধ প্রার্থনার আলো নিয়ে। মায়ের কালো রূপে আলোর জয়গান। চেতলার দশমহাবিদ্যা পুজো মানেই অন্ধকারের বুক চিরে আলোর উৎসব।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *